মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাব তেল সরবরাহে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় কতটা তৈরি ভারত?

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-ফাইল ছবি।

ছবির উৎস, Photo by Antonio Masiello/Getty Images

ছবির ক্যাপশান, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান অস্থিরতা ভারতের উদ্বেগ বাড়িয়েছে- ফাইল ছবি।
    • Author, সন্দীপ রাই
    • Role, বিবিসি নিউজ হিন্দি
  • পড়ার সময়: ৭ মিনিট

ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব ক্রমে আরো স্পষ্ট হয়ে উঠছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং উপসাগরীয় দেশের শোধনাগারগুলোতে একের পর এক হামলা অপরিশোধিত তেলের সংকটকে তীব্রতর করে তুলেছে।

ইরানের রাজধানী তেহরানের এক প্রধান তেল ডিপোতে শনিবার রাতে হামলার পর অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যাপক পরিমাণে বেড়ে গিয়েছে। সোমবার 'ট্রেডিং সেশনে' অপরিশোধিত তেলের দাম ২৩ ডলার বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১০৩ ডলারে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।

একটা ট্রেডিং সেশন বলতে আর্থিক বাজার ট্রেডিংয়ের জন্য নির্দিষ্টভাবে বেচা-কেনার জন্য যতক্ষণ খোলা থাকে, সেই সময়কালটিকে বোঝায়।

ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তার মধ্যে জি-সেভেন দেশগুলো নিজেদের স্ট্র্যাটেজিক অয়েল রিজার্ভ বা কৌশলগত তেলের ভাণ্ডার থেকে ৩০০-৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ছেড়ে দিতে পারে বলে জানা গিয়েছে।

সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাপানের অর্থমন্ত্রী সাতসুকি কাতায়ামা জানিয়েছেন ইন্টারন্যাশানাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ) বা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার তরফে জি-৭ দেশগুলোকে পর্যায়ক্রমে তাদের রিজার্ভ খুলতে বলা হয়েছে।

আইইএ-তে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যের মতো যেমন সদস্য দেশ রয়েছে তেমনই ভারত, চীনের মতো দেশগুলি 'সহযোগী হিসাবে আছে।

আইইএ-এর ৩০টি সদস্য দেশ আছে, যাদের কাছে ৯০ দিনের মতো প্রয়োজনীয় তেলের ভাণ্ডার মজুদ রাখতে হয়।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, জাপান তার মোট খরচের ৯৫% তেল আমদানির উপর নির্ভর করে এবং তাদের কাছেই সবথেকে বেশি পরিমাণে তেল মজুদ আছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতে খুব অল্প সময়ের জন্য তেলের এই চড়া দাম বিশ্ব শান্তির কাছে নগণ্য বিষয়।

হরমুজ প্রণালী বিশ্বের তেল পরিবহনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটা রুট।
ছবির ক্যাপশান, হরমুজ প্রণালী বিশ্বের তেল পরিবহনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটা রুট।
স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

তবে 'ট্রেডিং ডটকম'-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পিটার ম্যাকগুয়ার সতর্ক করে দিয়েছেন যে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১৫০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

তেলের দামের ওপরে নজর রাখে 'দ্য স্পেক্টেটর ইনডেক্স' নামক সংস্থা।

তাদের তথ্য অনুযায়ী, অপরিশোধিত তেলের দাম ৩০%, ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ২৬%, হিটিং অয়েলের (পাতন পদ্ধতি ব্যবহার করে অপরিশোধিত তেল থেকে পাওয়া একটা তরল পেট্রোলিয়াম পণ্য, যা মূলত ঘরবাড়ি এবং বাণিজ্যিক ভবনকে উষ্ণ রাখতে এবং জল গরম করার জন্য ব্যবহার করা হয়) দাম ২২% এবং পেট্রোলের দাম ১৪% বেড়েছে।

এশিয়ার শেয়ার বাজারেও বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গিয়েছে। ট্রেডিং সেশনের সময়ে, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, ভিয়েতনাম, ভারত এবং চীনের শেয়ার বাজার এক থেকে ছয় শতাংশ পড়েছে।

স্পষ্টতই এই অস্থির অবস্থা ভারতের এনার্জি সিকিওরিটি বা শক্তি নিরাপত্তা বিষয়ক ক্ষেত্রকেও প্রভাবিত করছে।

ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি রাশিয়ান তেল কেনার জন্য ভারতকে সাময়িকভাবে ৩০ দিনের ছাড় দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মতে এই ব্যবস্থা তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করবে।

মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট স্পষ্ট করে বলেছেন, "এটা একটা অস্থায়ী পদক্ষেপ, যার লক্ষ্য ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের কারণে অপরিশোধিত তেলের বাজারে উপর বাড়তে থাকা চাপ কমানো।"

কিন্তু ক্রমবর্ধমান সংঘাতের কারণে ভারত ও পাকিস্তানসহ অনেক দেশই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছে। পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের মেয়ে মরিয়ম নওয়াজ বলেছেন, সরকারি কর্মকর্তাদের জ্বালানি সরবরাহে কাটছাঁট করা হবে।

তিনি এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, "পেট্রোলিয়াম নিয়ে সংকটের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত প্রাদেশিক মন্ত্রীদের জন্য সরকারি জ্বালানি সরবরাহ স্থগিত থাকবে। আমি সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ির জন্য পেট্রোল এবং ডিজেল ভাতা অবিলম্বে ৫০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দিয়েছি।"

তেল শোধনাগারের ছবি-প্রতীকী।

ছবির উৎস, AFP via Getty Images

ছবির ক্যাপশান, দেশের প্রয়োজনীয় জ্বালানির একটা বড় অংশ ভারত আমদানি করে- প্রতীকী ছবি।

অনিশ্চয়তার মধ্যে ভারতের উপর প্রভাব

পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞ হর্ষ ভি পন্থ বিবিসি হিন্দির এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, "এই পরিস্থিতিতে তেলের দাম বাড়তে বাধ্য, বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতিতেও এর প্রভাব পড়বে। আইএমএফের তরফে বারবার বলা হয়েছে, এখন অনেক কিছু ঘটতে পারে এবং দেশগুলোকে তার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।"

তিনি বলেন, "বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বের বড় অর্থনীতিগুলোও সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে, অন্যদিকে দুর্বল অর্থনীতি ভেঙে পড়ছে। ট্রাম্পের বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, হয় তিনি দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন না, অথবা তিনি সেটা বোঝেন না।"

এই পরিস্থিতিতে ভারতের রণকৌশল কী হবে, সে সম্পর্কে তিনি বলেন, "ভারত তেল আমদানির ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য আনছে। যখন ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, ভারত রাশিয়া থেকে প্রচুর পরিমাণে তেল নিতে শুরু করেছিল, তার আগে মাত্র দুই শতাংশ তেল আমদানি করা হতো।"

সেই সময়কার পরিস্থিতির কথা ভারতের মনে আছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

এই বিশেষজ্ঞের কথায়, "সেই সময় থেকে ভারত শিক্ষা নিয়েছে। কিন্তু এই সময়ে দাঁড়িয়ে বাধ্যবাধকতার বিষয় হলো পশ্চিম এশিয়া সংঘাতের আওতায় এসেছে এবং এটা বিশ্ব তেল বাজারের কেন্দ্রস্থল। তাই এর প্রভাব পড়তে বাধ্য।"

তার কথায়, "একটা সময়ে বলা হচ্ছিল যে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা থেকে তেল আমদানি করা হবে। কিন্তু সেটা কতটা সম্ভব হবে, তা সময়ই বলবে।"

রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার-প্রতীকী ছবি।

ছবির উৎস, AFP via Getty Images

ছবির ক্যাপশান, রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারের বুকিংয়ের ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে কিছুটা কড়াকড়ি করেছে সরকার-প্রতীকী ছবি।

ভারত সরকারের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেই ভারতকে এখন রাশিয়া থেকে তেল কেনার কথা বলেছে।

তবে একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে সমুদ্রে আটকে থাকা রাশিয়ান তেলের ট্যাংকারগুলো প্রাথমিকভাবে ভারতের দিকে যাচ্ছিল। কিন্তু এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার ফলে ওই তেল কিনতে অতিরিক্ত মূল্য দিতে হতে পারে।

এরপর কিছু তেলবাহী ট্যাংকার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশের দিকে ফিরে যাচ্ছে বলেও খবর আসে।

চলমান অস্থিরতার সময়ে ভারতের জ্বালানি-নিরাপত্তা নিয়েও চিন্তার কারণ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, এর প্রভাব পুরো বিশ্বেই পড়বে।

ভারতে এই অনিশ্চয়তার প্রভাব ইতিমধ্যে দৃশ্যমান। রাষ্ট্রায়ত্ব তেল সংস্থা 'ইন্ডিয়ান অয়েল' শনিবার রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম ৬০ টাকা এবং বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম ১১৫ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা করেছে।

অন্যদিকে, সোমবার ভারত সরকারের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রণালয় বিবৃতি জারি করে জ্বালানি সরবরাহের ওপরে নজর রাখার কথা বলেছে।

মন্ত্রণালয়ের তরফে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়া এবং এলপিজি সরবরাহের উপর চাপের পরিপ্রেক্ষিতে তেল শোধনাগারগুলোকে এলপিজি উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই অতিরিক্ত উৎপাদন বাড়িতে ব্যবহৃত এলপিজি সরবরাহের জন্য ব্যবহার করা হবে।"

মন্ত্রণালয় গৃহস্থ বাড়িতে রান্নার গ্যাস সরবরাহকেই অগ্রাধিকার দিয়েছে, পাশাপাশি মজুতদারি ও কালোবাজারি রোধ করতে একবার গ্যাস বুকিংয়ের ২৫ দিনের আগে দ্বিতীয়বার সিলিন্ডার বুক করা যাবে না।

ওই বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, "আমদানি করা এলপিজি থেকে হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় সরবরাহকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। রেস্তোরাঁ, হোটেলের মতো অন্যান্য ক্ষেত্রে রান্নার গ্যাস সরবরাহের চাহিদা পর্যালোচনা করতে তেল বিপণন সংস্থাগুলোর তিন নির্বাহী পরিচালকদের নিয়ে একটা কমিটি গঠন করা হয়েছে।"

মুম্বাইয়ে অবস্থিত একটা তেল শোধনাগারের ছবি- প্রতীকী।

ছবির উৎস, Bloomberg via Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ভারতের কাছে বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য তেল মজুদ রয়েছে বলে সরকারিভাবে জানানো হয়েছে- প্রতীকী ছবি।

ভারতের তেলের মজুদ কত?

মার্কিন চাপের কারণে ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনার পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছে। যদিও ভারত সরকার জানিয়েছিল যে তারা বাজারের পরিস্থিতি অনুযায়ী দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার প্রয়োজনের উপর ভিত্তি করে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

কিন্তু এরই মধ্যে ভারতের তেলের মজুদ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ নরেন্দ্র তানেজা বিবিসির এক অনুষ্ঠানে বলেন, "হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে প্রতিদিন ১৩৭টা জাহাজ যেত, কিন্তু গত কয়েকদিনে মাত্র দুটো ট্যাংকার ছেড়েছে। ভারত, চীন, জাপানের মতো দেশগুলো এই অঞ্চল থেকে আসা তেলের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। এখন সেখানে একটা সমস্যা দেখা দিয়েছে।"

এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করা দরকার ভারতের অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের ৯০ শতাংশ জ্বালানি আমদানি করা হয়। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের উপর চাপ রয়েছে। এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি সত্ত্বেও ভারত কখনোই বলেনি যে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা হবে না।

মি. তানেজার কথায়, "চীন গত এক বছরের মধ্যে ইরান থেকে প্রতিদিন দশ মিলিয়ন ব্যারেল তেল কিনেছে এবং যা তাদের কৌশলগত রিজার্ভ এবং বাণিজ্যিক রিজার্ভে জমা করেছে। তারা গত ৩৬৫ দিনে এত তেল মজুদ করেছে যে আগামী পাঁচ মাস এই বিষয়ে তাদের চিন্তা করতে হবে না।"

"ভারতের তেলের মজুদের কথা বলতে গেলে, এটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ বিশ্বের ৪১টা দেশ থেকে তেল আমদানি করে। আজ আমাদের যে কৌশলগত রিজার্ভ রয়েছে, যেটা মাটির নিচে রাখা থাকে, সেটা মোটামুটি ২৫ দিনের চাহিদা মেটাতে পারে। তাছাড়া তেলের ডিপোগুলোতে, শোধনাগারে বাণিজ্যিক সেক্টরের কাছেও মজুদ থাকে। সব মিলিয়ে আজ আমাদের কাছে ৫০ দিনের তেল আছে। কিন্তু সবটা তো খালি করা যাবে না। তাই বাস্তবে আমাদের কাছে ৪০ দিনের তেল মজুদ আছে।"

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান পরিস্থিতির প্রভাব বিশ্বের তেল বাজারে পড়েছে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত-প্রতীকী ছবি।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান পরিস্থিতির প্রভাব বিশ্বের তেল বাজারে পড়েছে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত-প্রতীকী ছবি।

সাধারণ মানুষের উপর প্রভাব

ডোনাল্ড ট্রাম্প যদিও বলেছেন যে তেলের দামের এই ওঠানামা খুব কম সময়ের জন্য, কিন্তু যুদ্ধ যতদিন গড়াবে, সাধারণ মানুষের উপর তার প্রভাব আরো বেশি পড়তে শুরু করবে।

নরেন্দ্র তানেজা অবশ্য জানিয়েছেন যে ভারতবাসীদের এখনই আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই।

তার মতে ভারতের কাছে উদ্বেগের বিষয় এটা নয় যে তেল পাওয়া যাচ্ছে কি না। চিন্তার বিষয় হলো তেলের দাম কী হবে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার সময় তেলের দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় ৬৫ ডলার ছিল, যা এখন বেড়েছে।

তিনি বলেন, "এখনো পর্যন্ত সরকার দামের ঊর্ধ্বসীমা বেঁধে রেখেছে। কিন্তু যুদ্ধ দীর্ঘ দিন চললে সরকারের কাছেও একটা সীমা থাকবে। সরকার আর তেল সংস্থাগুলো যদি হাত তুলে দেয়, তখন দেখতে হবে যে সরকারের কাছে কী বিকল্প আছে, আর ক্রেতাদের জন্য কী বার্তা আসছে।"

এই পরিস্থিতি দীর্ঘদিন হলে তার প্রভাব কী হবে সে নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মি. তানেজা।

তার কথায়, "এই যুদ্ধ যদি ১০ দিনের বেশি স্থায়ী হয়, তবে পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠতে পারে এবং সেটা কিন্তু পুরো বিশ্বের জন্যই হবে।"

আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ব্রহ্মা চেলানির মতে, বোমাবর্ষণ হয়ত বন্ধ হতে পারে, তবে শোধনাগার ও তেলের খনিগুলোর যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা পুনরুদ্ধার করতে কয়েক মাস সময় লেগে যাবে।

মি. চেলানি এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, "ইরানের জ্বালানি ডিপো এবং অন্যান্য বেসামরিক স্থাপনায় বোমা ফেলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল সে ধরনের হামলারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। পাশাপাশি তারা গভীরতর বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের ঝুঁকিও বাড়িয়ে তুলছে।"

"উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামো ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে বাধা দেওয়ার চেষ্টার সময়েও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যাঘাত, ক্ষতি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার উপর চাপের কারণে বোমাবর্ষণ বন্ধ হওয়ার পরেও কয়েক মাস ধরে তেল এবং এলএনজির দাম চড়া থাকতে পারে।"