লাইভ, নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে বিজয়ী বিএনপি
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে বিজয়ী হয়েছে বিএনপি। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে এরই মধ্যে অভিনন্দন জানিয়েছে ভারত, পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্র। তবে ভোট গণনায় ফল পাল্টে দেওয়ার অভিযোগ করেছে জামায়াত ও এনসিপি।
সরাসরি কভারেজ
১৭ তারিখের মধ্যে শপথ হতে পারে বলে বলছে বিএনপি
নির্বাচনে দুই তৃতীয়াংশ আসনে বিজয়ী হওয়ার পর কীভাবে এবং কার কাছে শপথ নেওয়া হবে, তা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে বিএনপি।
পার্লামেন্টের অনুপস্থিতিতে কীভাবে বা কার কাছে শপথ পাঠ করা হবে, তার আইনি দিকগুলো খতিয়ে দেখছেন দলটির নেতারা।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে শুক্রবার রাতে দেখা করেছেন বিএনপির কয়েকজন শীর্ষ নেতা।
এরপর দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, এখন কীভাবে বা কার কাছে শপথ নেওয়া হবে, সেগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা হচ্ছে।
''যদি গেজেট হয়ে যায়, স্পিকার ডেপুটি স্পিকারের সুযোগ না থাকায়, তখন তিনদিনের মধ্যে সিইসির শপথ পড়ানোর সুযোগ নেওয়া যায়। সেই হিসাবে ১৭ তারিখের মধ্যে শপথ হতে পারে,'' তিনি বলেন।
প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, যেদিন সকালে সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন, সেদিন বিকালেই রাষ্ট্রপতির কাছে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেন।
বর্তমান আইন অনুযায়ী, স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার শপথ পড়াবেন। সেটা না হলে রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তির কাছে শপথ নেওয়া যাবে। কিন্তু স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার অসমর্থ হলে তিনদিন পরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়াবেন।
বর্তমানে কে কীভাবে শপথ পড়াবেন, তার আইনি ব্যাখ্যা নিচ্ছে বিএনপি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়ালে আইনের দিকগুলো যাচাই করে দেখছে দলটি।
তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও
ছবির উৎস, Getty Images
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
শুক্রবার নিজের ভেরিফায়েড এক্স একাউন্ট (সাবেক টুইটার) থেকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিনন্দন জানান।
এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া পোস্টে মার্কো রুবিও বলেন, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং দলনেতা তারেক রহমানসহ বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন।”
একইসঙ্গে নতুন সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাজ করার আগ্রহের কথাও জানান তিনি।
এক্স পোস্টে তিনি বলেন, "আঞ্চলিক সমৃদ্ধি, স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে আমরা বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের সঙ্গে একযোগে কাজ করার প্রত্যাশা করছি।"
ছবির উৎস, X
তারা কীরকম দেশ পরিচালনা করবে, সেটা নিয়ে জনগণের মধ্যে প্রশ্ন এসেছে: নাহিদ ইসলাম
ছবির ক্যাপশান, জামায়াতে ইসলামীর দপ্তরে একটি সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, কিছু আসন টার্গেট করে প্রশাসনকে ব্যবহার করে ফলাফল পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার রাতে ঢাকায় জামায়াতে ইসলামীর দপ্তরে একটি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই কথা বলেন। ওই সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় জোটের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের বক্তব্যের পর নাহিদ ইসলাম বলেন, ''এই নির্বাচনে সুস্পষ্টভাবে ফলাফলে কারচুপি হয়েছে।''
''একটা পর্যায় পর্যন্ত নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হয়েছিল, আমরা সেটাকে স্বাগত জানিয়েছিলাম। কিন্তু ফলাফল যখন ঘোষণা করার সময় হয়েছে, ওই সময়ে স্পেসিফিক অনেকগুলো আসন টার্গেট করে, ঢাকা ১৩, ঢাকা ৮ আসন, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেলে আসন এরকম স্পেসিফিক কয়েকটি আসন টার্গেট করে ফলাফল পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্র দখল করে সেই কেন্দ্রে জোর করে প্রশাসনকে ব্যবহার করে ফলাফল পরিবর্তন করা হয়েছে,'' অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, ''যে প্ল্যানের কথা আমরা শুনেছি, সেই প্ল্যানের একটি বাস্তবায়ন, একটা স্বরূপ এই নির্বাচনে আমরা দেখতে পাচ্ছি।''
এই নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী হয়েছে বিএনপি। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে তাদের সরকার গঠনের কথা রয়েছে।
বিএনপিকে ইঙ্গিত করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ''আওয়ামী লীগ যেভাবে নির্বাচন করেছে, সেই ধরনের প্রচেষ্টা আমরা যাদের ভিতর দেখতে পাচ্ছি, তারা কীরকম রাষ্ট্র পরিচালনা করবে, কীরকম দেশ পরিচালনা করবে, সেটা নিয়ে জনগণের মধ্যে প্রশ্ন এসেছে।''
এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, ''নির্বাচনের পরদিনই যারা তাদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের ওপর হামলা, সারাদেশে নির্বিচারে হামলা, বাড়িঘরে আগুন লাগানো, হুমকি এবং এলাকা ছাড়া করছে, তাদের কাছে এই দেশের জনগণ, এই দেশের মানুষ কীভাবে নিরাপদ থাকবে, সেটা নিয়ে প্রশ্ন এসেছে এবং সেটার জন্য আমরা ১১ দল ঐক্যবদ্ধ হয়েছি।''
জামায়াত আমিরের সাথে একমত জানিয়ে নাহিদ ইসলাম জানান, এটার জন্য রাজপথে নামার প্রয়োজন হলে সেটার জন্য তারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ছবির ক্যাপশান, নির্বাচন ঘিরে সংবাদ সম্মেলনে নানা অভিযোগ করেছেন ১১ দলীয় জোটের নেতারা
সংসদ নির্বাচনে ভোট গণনায় অনিয়ম ও কারচুপি করে ফলাফল পাল্টে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের নেতারা।
কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সভা শেষে শুক্রবার রাতে একটি সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ''নির্বাচন মানে হারজিৎ থাকবে, সেটা স্বাভাবিক। সেই হারজিতে যদি স্বাভাবিকভাবে হয়, তাহলে সবাই সাধারণত মেনে নেয়। কিন্তু সেখানে যদি বড় ধরনের কোনো বৈষম্য অনিয়ম হয়ে থাকে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি করে।''
''আপনার লক্ষ্য করেছেন, আজকে বাংলাদের বিভিন্ন জায়গায় ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের কর্মী সমর্থক এজেন্ট ভোটারদের বাড়িতে বাড়িতে হামলা হচ্ছে, ব্যক্তির ওপর হামলা হচ্ছে, আগুন ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বাড়িতে। এটা তো ফ্যাসিবাদী তৎপরতা,'' অভিযোগ করেন জামায়াতের আমির।
''এর সম্পূর্ণ দায় তাদের নিতে হবে, যারা এ ধরনের অপকর্মে লিপ্ত হবেন। নির্বাচনে যারা সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়েছেন, যেভাবেই পেয়ে থাকেন, এ ব্যাপারে আমাদের যথেষ্ট পর্যবেক্ষণ- আপত্তি আছে। দায় মূলত তাদেরকেই নিতে হবে।'
এই সময় তার সাথে ১১ দলীয় জোটের সঙ্গী দল এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকসহ বিভিন্ন নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী দল বিএনপিতে ইঙ্গিত করে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, ''যদি তারা সরকার গঠন করেন, দেশের শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা হবে তাদের দায়িত্ব, যদি তারা সরকার গঠন করেন। কিন্তু এখন এগুলো কিসের আলামত? এগুলো বন্ধ করতে হবে। সেটা যদি বন্ধ করা না হয়, আমরা বাধ্য হবো যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে।''
তিনি বলেন, আমরা লক্ষ্য করেছি, সুনির্দিষ্ট এখনি বলতে চাচ্ছি না, কোনো কোনো জায়গায় ফেসিবাদীদের পুনর্বাসন করা হচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারণার সময়েও তা লক্ষ্য করেছি। মনে রাখবেন, ২৪ এর আকাঙ্ক্ষার সাথে যে কেউ অপমানজনক আচরণ করবেন, জাতি তাদের ক্ষমা করবে না, যুব সমাজ তাদের ক্ষমা করবে না।
জামায়াত আমির বলেন, ''সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ রায় দিয়েছে গণভোটের পক্ষে, অবশ্যই তা বাস্তবায়ন করবে হবে, এর কোনো পরিবর্তন আমরা দেখতে চাই না। গণভোটে হ্যা বিজয়ী হয়েছে, যারা সরকার গঠন করবেন, সেটা বাস্তবায়ন করা তাদের দায়িত্ব। কেউ যদি এড়িয়ে চলতে চান, এ বিষয়ে আমরা কণ্ঠ থেকে থাকবে না, আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করবো।''
তিনি অভিযোগ করেন, গতকাল নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার সময় বেশ কিছু জায়গায় হঠাৎ করে ফলাফল প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
''আমাদের কাছে ডকুমেন্ট আছে, বিভিন্ন জায়গায় রেজাল্ট শীটের ওপর ঘষামাঝা করা হয়েছে। কিছু কিছু আসনে দ্বৈতনীতি অবলম্বন করা হয়েছে,'' বলেন শফিকুর রহমান।
''নাসিরউদ্দীন পাটওয়ারীর ক্ষেত্রে যা হয়েছে, আপনারা দেখেছেন, সেন্টার দখল করে একজন নেতার আপনজনের নেতৃত্বে যা হয়েছে, তার সাক্ষী দেশবাসী।''
জামায়াত আমির শফিকুর রহমান সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ''যাদের অধিকার জোর করে কেড়ে নেওয়া হয়েছে, আমাদের সিদ্ধান্ত তারা প্রতিকার চাইবেন। সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যদি আমরা প্রতিকার পাই, তাহলে এক কথা। যদি না পাই, তাহলে আমরা বাধ্য হবো আমাদের পথ ধরতে। আমরা আশা করবো নির্বাচন কমিশনের শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং তারা ন্যায় ইনসাফ করবেন। না করলে দায় তাদের নিতে হবে।''
তিনি বলেন, ''যে সমস্ত আসনে ভয়াবহ অনিয়ম হয়েছে, আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে তার প্রতিকার চাইবো। কিন্তু হাস্যকার, এত কিছু করার পরেও একটা পক্ষ সন্তুষ্ট হতে পারছে না। ভোট কেড়ে নেওয়া, রেজাল্টে নানারকম মেকানিজম প্রয়োগ করা, এখন আবার সেই সিটগুলোর বিরুদ্ধে অনেকে নতুন কসরত শুরু করেছেন। কি চাচ্ছেন আপনারা? জাতির সামনে পরিষ্কার বলে দেন। এই প্রক্রিয়া যদি বন্ধ না হয়, তাহলে আমাদের কী করার থাকবে? যারা এই ধরনের কাজ করবেন, দায় তাদের নিতে হবে।''
যেসব ঋণখেলাপি নির্বাচিত হয়েছেন তাদের ফলাফল স্থগিত রেখে দ্রুত এ ব্যাপারে সুরাহার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, “ঋণখেলাপি এক ধরণের অপরাধ। এগুলো এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। আমলে নেয়া হয়নি। এগুলো আরপিও এর ভায়োলেশন। আমরা এমন দেখতে চাই না”।
জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, ''আমরা ইতিবাচক রাজনীতি করতে চাই, তারা যদি আমাদের ইতিবাচক রাজনীতি থেকে বঞ্চিত করেন, তাহলে দায় তাদের।''
''আমরা এই সমস্ত ঘটনা, গতকাল থেকে আজ পর্যন্ত যা ঘটেছে, সবগুলোর আজ তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা এটার প্রতিকার চাই। আমরা প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাসী নই, কিন্তু প্রতিকার চাওয়ার ও পাওয়ার আমাদের অধিকার আছে,''জামায়াতের আমির বলেন।
তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে ব্রিটিশ দূতাবাস
ছবির উৎস, UK in Bangladesh
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করায় দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে ব্রিটিশ দূতাবাস।
শুক্রবার ঢাকাস্থ ব্রিটিশ দূতাবাসের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে এ শুভেচ্ছাবার্তা জানানো হয়।
পোস্টে বলা হয়, নির্বাচনে জয়লাভ করে নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করায় তারেক রহমান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, মাইগ্রেশন, জলবায়ু, নিরাপত্তা ও আমাদের যৌথ অগ্রাধিকার বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয় ওই শুভেচ্ছা বার্তায়।
পাবনায় ডিসি অফিস ঘেরাও করে ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ বিএনপির নেতাকর্মীদের
ছবির উৎস, Kolit Talukder
পাবনা-৩ ও পাবনা-৪ আসনে ভোট পুনরায় গণনার দাবিতে পাবনা জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছে বিএনপির নেতাকর্মীরা।
শুক্রবার বেলা ৪টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয় পাবনা-৩ ও পাবনা-৪ আসনের বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ সময় ভোট পুনঃগণনার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
বিএনপির নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ ঘিরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। প্রধান গেট বন্ধ করে কার্যালয়ের সামনে পুলিশ, বিজিবির পাশাপাশি অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়।
বেলা ৫টার দিকে জেলা প্রশাসক সেনাবাহিনী প্রহরায় তার কার্যালয়ে আসেন।
পরে পাবনা-৩ এর বিএনপির পরাজিত প্রার্থী কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন ও পাবনা-৪ এর বিএনপি পরাজিত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবসহ জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসকের সাথে বৈঠকে বসেন।
প্রায় এক ঘন্টা পর বিএনপি নেতৃবৃন্দ তাদের কর্মীদের নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে সড়ে যান।
পরে জেলা প্রশাসকের পক্ষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল আলিম জানান, পরাজিত প্রার্থী দুইজনের আবেদন পত্র দুটি প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে সিদ্ধান্ত মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পাবনা-৩ আসনে তিন হাজার ২৬৯ ভোটে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতের মাওলানা আলী আজগার। তিনি এক লাখ ৪৭ হাজার ৪৭৫ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির হাসান জাফির তুহিন এক লাখ ৪৪ হাজার ২০৬ ভোট।
পাবনা-৪ আসনে তিন হাজার ৮০১ ভোটের ব্যবধানে জামায়াতের আবু তালেব মন্ডল বিজয়ী হয়েছেন। আবু তালেব মন্ডল পেয়েছেন এক লাখ ৩৭ হাজার ৬৭৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির হাবিবুর রহমান হাবিব পেয়েছেন এক লাখ ৩৩ হাজার ৮৭৪ ভোট।
পঞ্চগড়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একটি কার্যালয়ের তালা খুলে দেওয়াকে কেন্দ্র করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
শুক্রবার সকালে সদর উপজেলার চাকলাহাট বাজারে উপজেলা বিএনপি'র সভাপতি আবু দাউদ প্রধানের উপস্থিতিতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটির একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে দেখা যায়, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান (বুলেট) কার্যালয়ের সামনে বক্তব্য দিচ্ছেন। তার পাশে উপস্থিত ছিলেন আবু দাউদ প্রধানসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা ।
কামরুজ্জামান বক্তব্যে কার্যালয় তালামুক্ত করায় বিএনপি নেতার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
তবে এটি যে আওয়ামী লীগের কার্যালয় ছিলো তা তিনি জানতেন না বলে দাবি করেছেন উপজেলা বিএনপি'র সভাপতি আবু দাউদ প্রধান।
বিবিসি বাংলাকে তিনি জানান, সকালে তিনি বাজারে যাওয়ার সময় স্থানীয় বণিক সমিতির সভাপতি তার কাছে অভিযোগ করেন যে স্থানীয় জামায়াত কর্মী তার গুদামের চাবি নিয়ে গিয়েছে।
তিনি মূলত স্থানীয়দের মধ্যে এই সমস্যা মিটমাট করতে যান এবং ওই জামায়াত কর্মীকে গুদামের চাবি বুঝিয়ে দিতে বলেন। এই গুদামটি এক সময় আওয়ামী লীগের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
"আমি জানতাম না এখানে কোন আওয়ামী লীগের অফিস আছে। সেখানে কোন সাইনবোর্ড নেই। আমি উত্তেজনা সামাল দেয়ার জন্য চাবি বুঝিয়ে দিতে বলি, ওইখানে আওয়ামী লীগের কর্মী ছিলো। তারপর তারা ধন্যবাদ জানালো। আমি বিষয়টাকে সেভাবে নেইনি।"
গুদামে তালা থাকায় এলাকায় যে উত্তেজনা সৃষ্টি হচ্ছিল সেখানে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই তালা খুলে দেয়ার কথা জানান তিনি। এটি কোনো দলীয় সিদ্ধান্ত নয় এবং আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধই থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক মাধ্যমে পক্ষে-বিপক্ষে মন্তব্য দেখা গেছে।
নির্বাহী পরিষদের বৈঠকের পর 'নির্দেশনা' তুলে ধরবে জামায়াত
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠক চলছে। বৈঠক শেষে রাত ১০টার মধ্যে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে দলের পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনা তুলে ধরার কথা জানানো হয়েছে।
দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সন্ধ্যায় দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।
তিনি জানান, দলের সর্বোচ্চ এই ফোরাম থেকে ভোটের বিষয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা এবং দলীয় কর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হবে।
জামায়াতে আমির নিজে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে ভোট নিয়ে পর্যালোচনা ও বক্তব্য তুলে ধরবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এর আগে জামায়াতে ইসলামী তাদের ভ্যারেফায়েড ফেসবুক পেজের স্ট্যাটাসে ভোট দেওয়ার সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেও নির্বাচনের ফলাফল তৈরি ও ঘোষণার ধরন নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
সেখানে বলা হয়, “অনেক জায়গায় আমাদের প্রার্থীরা অল্প ভোটে রহস্যজনকভাবে হেরে গেছেন। ফলাফলে বারবার গরমিল ও সাজানো দেখা যাচ্ছে এবং প্রশাসনও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেনি বলে মনে হচ্ছে। এসব কারণে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে”।
এমন পরিস্থিতিতে জোটের পরবর্তী ঘোষণা না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করার আহ্বান জানানো হয়।
ফলাফল স্থগিত করে পুনর্নির্বাচনের দাবি ঢাকা-১৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী তুলির
ছবির উৎস, sreengrab
ছবির ক্যাপশান, ঢাকা-১৪ আসনের নির্বাচনে 'ব্যাপক কারচুপির’ অভিযোগ তুলেছেন বিএনপি প্রার্থী সানজিদা ইসলাম তুলি
নির্বাচনে 'ব্যাপক কারচুপির’ অভিযোগ তুলে ফলাফল স্থগিত করে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন ঢাকা-১৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী সানজিদা ইসলাম তুলি।
তিনি বলেন, ইসিকে এই আসনের নির্বাচন স্থগিতের জন্য গতকালই অনুরোধ করা হয়েছে। আজ আবার একই অনুরোধ করা হলো।
সানজিদা ইসলাম তুলির অভিযোগ, জামায়াতে ইসলামীর একটা বড় অংশ ভোটের আগে বিভিন্ন কেন্দ্রে টাকার বিনিময়ে কাজ করতে শুরু করেছিলো। এমন কোনো কেন্দ্র নেই যেখানে তার ভলেন্টিয়ারদের মারধর করা হয়নি। জনগণ গিয়ে ভোট দিতে পারে এমন পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়নি।
তুলি দাবি করেন, তার সংগঠনের লোকেরা নিয়মের মধ্যে ছিল বলে কাল কোনো বিশৃঙ্খলা দেখা যায়নি।
দেশব্যাপী এনসিপি'র নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ আসিফ মাহমুদের
ছবির উৎস, Asif Mahmud Shojib Bhuyain/Facebook
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া অভিযোগ করেছেন, সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে এনসিপি এবং ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের উপর হামলা করা হচ্ছে।
তিনি আজ বিকেলে এক ফেসবুক পোস্টে জানান, এনসিপি'র নেতাকর্মীদের বাড়িঘর এবং পরিবার হুমকির সম্মুখীন।
পোস্টে নির্বাচনে বিজয়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, "যারা বিজয়ী হয়েছেন তারা আপনাদের নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করুণ। গণতান্ত্রিক উত্তরণের শুরুটাই যদি বিরোধীদল ও মতের মানুষদের নিপীড়নের মধ্য দিয়ে হয় তা আমাদের জন্য লজ্জাজনক হবে"।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠক চলছে
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠক চলছে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা জানা গেছে।
এর আগে শুক্রবার সকাল থেকে ঢাকার মগবাজারের কার্যালয়ে নেতকর্মীশূন্য পরিবেশ দেখা গিয়েছিল। দুপুরের পর থেকে তা পাল্টাতে থাকে। সাংবাদিক এবং দলের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি বাড়তে দেখা যায়।
তারেক রহমানকে ফোন করেছেন নরেন্দ্র মোদী
ছবির উৎস, Narendra Modi/x
নির্বাচনে জয় লাভ করায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানানোর পর ফোন করেও কথা বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
আজ শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে তিনি এ কথা জানান।
বিএনপি চেয়ারম্যান মি. রহমানের সঙ্গে ফোনে কথা বলে তিনি 'আনন্দিত' জানিয়ে ওই পোস্টে মি. মোদী আরও লেখেন, বাংলাদেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণে তারেক রহমানের প্রচেষ্টায় তার সমর্থন ও শুভকামনা থাকবে।
"যেহেতু প্রতিবেশী দুই দেশ ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গভীর বন্ধনে আবদ্ধ, আমি ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ও দুই দেশের জনগণের শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির প্রতি অব্যাহত অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছি," পোস্টে বলেন তিনি।
বিএনপিকে অভিনন্দন, অধ্যাপক ইউনূস ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা তাসনিম জারার
ছবির উৎস, Dr Tasnim Jara/Facebook
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ও বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রশিদ হাবিবকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন সাবেক এই এনসিপি নেত্রী।
নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানান। গত রাতেই ফোনকল করে হাবিবকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বলেও লিখেছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসনে বেসরকারি ফলাফলে হেরেছেন সাবেক এনসিপি নেত্রী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা। ফুটবল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৬৮৪ ভোট।
ওই আসন থেকে বিজয়ী বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রশিদ ধানের শীষ প্রতীকে মোট এক লাখ ১১ হাজার ২১২ ভোট পেয়েছেন। অর্থাৎ, তিনি তাসনিম জারার চেয়ে ৬৬ হাজার ৫২৮ ভোট বেশি পেয়েছেন। এই আসনে ফলাফলে জারার অবস্থান হয়েছে তৃতীয়।
তাসনিম জারা তার পোস্টে "দেশের এমন জটিল পরিস্থিতিতে বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য" অধ্যাপক ইউনূস ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
যুক্তরাজ্যে ফিরে যাচ্ছেন না জানিয়ে তিনি লিখেছেন, "অনেকে ভাবছেন নির্বাচন শেষ হলেই হয়তো আমি যুক্তরাজ্যে ফিরে যাব। আমি কোথাও যাচ্ছি না। আমার শেকড় এই মাটিতে, আমার কাজও এখানে। একটিমাত্র নির্বাচনের জন্য আমরা এই পথচলা শুরু করিনি। আমাদের লক্ষ্য রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন। এটি দীর্ঘ পথ। আর আপনাদের সঙ্গে এই পথ চলা আমার জন্য সম্মানের"।
ছবির ক্যাপশান, দুপুরে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে ইসি সচিব আখতার আহমেদ এই ফলাফল ঘোষণা করেন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এখন পর্যন্ত বেসরকারিভাবে ২৯৭টি আসনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আজ শুক্রবার বেলা আড়াইটার পর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে ইসি সচিব আখতার আহমেদ এই ফলাফল ঘোষণা করেন।
এর মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসন পেয়েছে।
ইসি সচিব আখতার আহমেদের জানান, নির্বাচনে ২৯৭টি সংসদীয় আসনের মধ্যে বিএনপি জয়ী হয়েছে ২০৯টি আসনে।
আর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে বিজয়ী হয়েছে। এনসিপি ছয়টি ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি আসনে বিজয়ী হয়েছে।
ইসলামী আন্দোলন, গণ-অধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন ও খেলাফত মজলিস- এই পাঁচটি দল একটি করে আসনে জয়ী হয়েছে। এছাড়া সাতটি আসনে জয়ী হয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থী।
কিন্তু অর্থ ঋণ মামলায় হাইকোর্টে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রামের দুটি আসনের ফলাফল গেজেটভুক্ত করা হবে না বলে ইসি সচিব জানান।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসন থেকে বিএনপি'র সরওয়ার আলমগীর ও চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসন থেকে বিএনপি'র আসলাম চৌধুরি বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন।
ইসি সচিব আরো বলেন, গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে ভোট দিয়েছেন চার কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ জন এবং না-এর পক্ষে ভোট দিয়েছেন দুই কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭ জন।
চট্টগ্রামের ওই দুটি আসনের গণভোটের হিসাবও এতে যুক্ত করা হয়েছে।
ভোটে জিতে হাঁস কোলে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসে যা বললেন রুমিন ফারহানা
'হাঁস' প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি এক লাখ ১৮ হাজার ৫৪৭টি ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোট সমর্থিত প্রার্থী জুনায়েদ আল হাবীব 'খেজুর গাছ' প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৮০ হাজার ৪৩৪টি ভোট।
নির্বাচনের জয়ের পর তিনি আজ শুক্রবার দুপুরে তার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাড়িতে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। সেখানে তিনি প্রতীক হিসেবে হাঁস বেছে নেওয়ার কারণ উল্লেখ করেন এবং তার বেড়ে ওঠার গল্পও করেন।
বিএনপি থেকে বের হয়ে বিজয়ীর হাসি হাসার যাত্রাটা তার জন্য বেশ কঠিন ছিল বলে জানান তিনি।
"আমার জার্নিটা কঠিন ছিল। কিন্তু আমার চেয়েও কঠিন জার্নি ছিল আমার নেতাকর্মীদের। আমি যদি আজকে না জিততাম, আমায় হয়তো আবার ঢাকায় ফিরে যেতে হতো। আমি আমার পেশায় ফিরে যেতাম। আমার এতগুলো কর্মী, সবাই বহিষ্কার হয়ে গেছে। এই ১৭টা বছর তারা এত কষ্ট করেছে, এত শ্রম দিয়েছে, তারা ঘরে ঘুমাতে পারে নাই। তারা কেউ কষ্ট রাখে নাই মনে। সবাই খুশি। এই ভালোবাসার ঋণ কীভাবে শোধ করবো আমি?"
এসময় তিনি অভিযোগ করেন, গতকাল দুপুরের পর বিভিন্ন জায়গায় দুপুরের পর ভোট ছাপানোর চেষ্টা হয়েছে। ফলাফল আটকে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।
"জালিয়াপাড়া কেন্দ্রে আমি নিজে গিয়েও খেজুর গাছের কর্মীদের সাথে আমি নিজে মারামারি করেছি। মারামারি করে আমি কেন্দ্রে ঢুকেছি। আবার ভোট গুনিয়েছি। কিছু ফলস ভোট পেয়েছি। এগুলো সবই চ্যালেঞ্জ।"
নির্বাচনের আগে তিনি যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সেগুলো তিনি আদৌ রাখবেন কি না, তাকে এই প্রশ্নও করা হয়।
উত্তরে তিনি বলেন, "আমি দলীয় প্রার্থী না। আমায় যদি এলাকায় আরেকবার নির্বাচন করতে হয়, কাজ করা ছাড়া আমার হাতে আর কোনো অপশন নাই। আমার নিজেকে টিকে থাকতে হলে কাজ করতেই হবে।"
ভোটের মার্কা হিসেবে হাঁস বেছে নেওয়ার কারণ সম্পর্কে বলেন, "আমার অনেক হাঁস ছিল, মোরগ ছিল, কবুতর ছিল। আম্মুর বড় চাকরির সুবাদে আমরা বড় বড় বাসায় থাকতাম। এরপর তো আমরা ছোট অ্যাপার্টমেন্টে চলে গেলাম। তখন এই হাঁস-টাঁস পালা হলো না...কিন্তু এখানে (ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে) আমার হাঁস-মুরগি অনেককিছু আছে। ওদের সাথেই আমার অবসর সময় কাটে।"
হাঁসের সাথে তার এই স্মৃতি-অভ্যাসের কারণেই তিনি হাঁসকে প্রতীক হিসেবে বেছে নিয়েছেন বলে জানান।
উল্লেখ্য, গত ৩০শে ডিসেম্বর রুমিন ফারহানা বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হন। যদিও একাদশ জাতীয় সংসদে বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন, ছিলেন দলটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহসম্পাদকও।
আজকের সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বিএনপি তাকে ফেরাতে চাইলে তার নেতাকর্মীদেরও ফেরাতে হবে।
গত ১১ই ফেব্রুয়ারি বিএনপি জোটের প্রার্থীর বিরুদ্ধে গিয়ে রুমিন ফারহানার নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ায় সরাইল উপজেলা, বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের ১০ নেতাকে বহিষ্কার করেছিলো বিএনপি।
এই বিজয় গণতন্ত্রের, এই বিজয় বাংলাদেশের: মাহদী আমিন
ছবির ক্যাপশান, বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন
বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন নির্বাচনে বিএনপির বিজয় নিয়ে অনুভূতি জানাতে গিয়ে বলেছেন, “এই বিজয় গণতন্ত্রের, এই বিজয় বাংলাদেশের”।
দলের গুলশান কার্যালয়ের বাইরে সাংবাদিকদের সামনে তিনি বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি জনগণের যে আস্থা, বিশ্বাস ভালোবাসা আমাদের নেতা তারেক রহমান পেয়েছেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রতিটি মানুষের অধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করবেন”।
বিএনপির সরকার জনকল্যাণমূলক সরকার হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিএনপির চ্যালেঞ্জ কী?
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয় পেয়েছে বিএনপি। এখন দলটির সামনে চ্যালেঞ্জ কী?
এ নিয়ে বিবিসি বাংলার বিশ্লেষণে অতিথি হিসেবে আছেন অর্থনীতিবিদ ড. ফাহমিদা খাতুন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কাজী মারুফুল ইসলাম।
এই নিবন্ধে Google YouTubeএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত Google YouTube কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।
সতর্কবাণী: বিবিসির নয় এমন ওয়েবসাইটের কনটেন্টের জন্য বিবিসি দায়ী না YouTube কনটেন্টে বিজ্ঞাপন থাকতে পারে
End of YouTube post
বিএনপি সরকারের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন
ছবির উৎস, বাসস
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন জানিয়েছে চীন। একইসঙ্গে তারা বিএনপির নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করারও আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
আজ শুক্রবার এক ফেসবুক পোস্টে চীনা দূতাবাস এ দেশের নতুন সরকারের সাথে একসাথে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে। সেই সাথে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন অধ্যায় রচিত হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে পোস্টটিতে।
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বাংলাদেশের স্থানীয় গণমাধ্যমকে ব্যাপকহারে উদ্ধৃত করে বিএনপির বিজয়ের সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।
২০২৪ সালের অগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার ও বিনিয়োগ বাড়ায় বেইজিং। প্রতিরক্ষা ও চিকিৎসা খাতে সহিযোগিতাও বাড়িয়েছে দুই দেশ।
ছবির উৎস, Embassy of the People's Republic of China in Bangladesh
ছবির ক্যাপশান, চীনা দূতাবাসের ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্ট
প্রার্থীদের ‘রহস্যজনকভাবে’ হার ও নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন জামায়াতের
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে বিএনপির জয় নিশ্চিত হয়েছে।
তবে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা নিয়ে কিছু অভিযোগ করেছে জামায়াত ও এনসিপি। এরই ধারাবাহিকতায় সকালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে করা পোস্টে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে দলটি।
পোস্টে বলা হয়, নির্বাচনের ফলাফল তৈরি ও ঘোষণার ধরন জামায়াতের কাছে পরিষ্কার নয়। অনেক জায়গায় দলটির প্রার্থীরা অল্প ভোটের ব্যবধানে রহস্যজনকভাবে হেরে গেছেন। ফলাফলে বারবার গরমিল ও সাজানো মনে হয়েছে জামায়াতের। প্রশাসন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেনি বলে দাবি করেছে দলটি।
সেই সাথে জোটের পরবর্তী ঘোষণা না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা ও ধৈর্য ধরার অনুরোধ করা হয়েছে জামায়াতের পক্ষ থেকে।
ছবির ক্যাপশান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে নেয়া স্ক্রিনশট
তারেক রহমানকে 'ভাই' সম্বোধন করে অভিনন্দন মমতার
ছবির উৎস, Getty Images
ছবির ক্যাপশান, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
বিএনপি ও দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তিনি আজ বৃহস্পতিবার দুপুর একটায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে এ কথা জানান।
তিনি তার পোস্টে বলেন, "বাংলাদেশের সকল ভাইবোনকে, জনগণকে, জানাই আমার শুভনন্দন, আমার আগাম রমজান মোবারক। বাংলাদেশের এই বিপুল জয়ের জন্য অভিনন্দন জানাই আমার তারেক ভাইকে, তার দলকে ও অন্যান্য দলকে। সবাই ভালো থাকুন, সুখী থাকুন।"
"আমাদের সঙ্গে সবসময় বাংলাদেশের সুসম্পর্ক বজায় থাকবে, এটাই আমরা কামনা করি," যোগ করেন তিনি।