বাংলাদেশে চলতি বছর কত ইলিশ উৎপাদন হবে?

ছবির উৎস, BBC BANGLA
আজ থেকে টানা ২২ দিন ইলিশ মাস ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার।
এ সময় ইলিশ মাছ শিকার, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাত ও কেনাবেচা নিষিদ্ধ থাকবে।
যদি কেউ এ আইন অমান্য করেন তবে তার বিরুদ্ধে জেল-জরিমানার বিধান রয়েছে।
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো: আনিসুর রহমান জানিয়েছে, ইলিশ মাছ ধরা বন্ধ রাখার কারণে চলতি বছরে ৪২ হাজার কোটি ডিম দেবার সম্ভাবনা আছে।
অর্থাৎ ৪২ হাজার কোটি জাটকা ইলিশ হবে বলে তারা আশা করছেন।
"এর মধ্যে যদি অল্পও টিকে যায় তাহলে সংখ্যাটি অনেক," বলছিলেন মি: রহমান।
বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন
বাংলাদেশে প্রতি বছর মার্চ-এপ্রিল মাসে আট সপ্তাহ এবং অক্টোবর মাসে তিন সপ্তাহ ইলিশ মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকে।
মার্চ-এপ্রিল মাসে ইলিশ মাছ ধরা নিষিদ্ধ রাখার উদ্দেশ্য হচ্ছে জাটকা (ছোট ইলিশ) যাতে বড় হতে পারে।
অক্টোবর মাসে তিন সপ্তাহ ইলিশ মাছ ধরা বন্ধ রাখার কারণ হচ্ছে প্রজনন-ক্ষম ইলিশ যাতে ডিম পাড়তে পারে।
এ সময়ের মধ্যে প্রজনন-ক্ষম ইলিশ সমুদ্র থেকে নদীতে এসে যাতে ডিম ছেড়ে নিরাপদে সমুদ্রে ফিরে যেতে পারে সেজন্য মাছ ধরা বন্ধ রাখা হয়েছে।

ছবির উৎস, আনিসুর রহমান
বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, ২০১৭ সালে বাংলাদেশ প্রায় পাঁচ লক্ষ মেট্রিক টন ইলিশ মাছ উৎপাদন হয়েছিল।
এবারও একই পরিমাণ ইলিশ মাছ উৎপাদনের আশা করছে করছে মৎস্য গবেষণা ইনন্সিটিউট।
মি: রহমান বলেন, উৎপাদিত পাঁচ লক্ষ মেট্রিকটনের মধ্যে প্রতিটি ইলিশ মাছের গড় ওজন প্রায় ৩০০ থেকে ৫০০ গ্রাম।
সে হিসেবে প্রায় ২০০ কোটি ইলিশ মাছ বাজারে আসতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি।
কর্মকর্তারা বলছেন, যত ডিম ছাড়া হয় তার মধ্যে দুই থেকে তিন শতাংশের বেশি টিকে না।
মৎস্য গবেষণা ইনন্সিটিউট বলছে বছরের দুই সময়ে ইলিশ মাছ ধরা নিষিদ্ধ করার কারণে গত কয়েক বছরে উৎপাদন দ্বিগুণ হয়েছে।








