আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
সুনামগঞ্জে হিন্দু গ্রামে হামলা: প্রধান আসামী শহীদুল ইসলাম স্বাধীন আটক
এক ইউপি সদস্যকে আটকের পর পুলিশ বলছে, তিনি সুনামগঞ্জের হিন্দু পল্লীতে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের প্রধান আসামী।
শহীদুল ইসলাম স্বাধীন নামে এই ব্যক্তিকে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া থেকে আজ ভোররাতে আটক করা হয়।
গত বুধবার শাল্লা উপজেলার একটি হিন্দু অধ্যুষিত গ্রামে কয়েক হাজার মানুষ হামলা চালিয়ে ৮৮টি বাড়িঘর এবং ৭/৮টি পারিবারিক মন্দির ভাংচুর করে এবং ব্যাপক লুটপাট চালায়।
কর্মকর্তারা বলছেন, হেফাজতে ইসলামের একজন নেতা মামুনুল হককে সমালোচনা করে এক হিন্দু যুবকের দেয়া একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসের জের ধরে এই হামলা চলে।
হামলার পরদিন দুটি মামলা হয় শাল্লা থানায় যার মধ্যে একটিতে প্রধান আসামী হিসেবে নাম এসেছে শহীদুল ইসলাম স্বাধীনের। যদিও অভিযুক্ত মি. ইসলাম শাল্লার বাসিন্দা নন, তিনি পার্শ্ববর্তী দিরাই উপজেলার একটি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য, কিন্তু শাল্লাতে ওই হামলার পর থেকেই তার নামটি সামনে চলে আসে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হামলাকারীদের অধিকাংশই ছিল অভিযুক্ত শহীদুল ইসলামের গ্রামের বাসিন্দা।
সিলেটে পিবিআইয়ের এসপি হুমায়ুন কবির বলছেন, শনিবার রাত দেড়টার দিকে কুলাউড়া থেকে তাকে আটক করা হয়।
তাকে ইতোমধ্যে সিলেটে নিয়ে এসে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মি কবির বলেন, "মূলত শাল্লা থানা এই মামলার তদন্ত করছে। পিবিআই ঘটনার ছায়া তদন্তের অংশ হিসেবে পলাতক আসামীদের কে কোথায় আছে সে বিষয়ে খোঁজ খবর করছিল। তার ভিত্তিতে আমরা তাকে গ্রেফতার করি।"
আরও পড়তে পারেন:
শাল্লা থানায় দুটি মামলা:
হামলার ৩৬ ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার রাতে হাবিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিবেকানন্দ মজুমদার বকুল ৮০ জনের নাম উল্লেখ করে এছাড়া অজ্ঞাত আরও দেড় হাজার জনকে আসামি করে প্রথম মামলাটি করেন।
এতে প্রধান আসামি করা হয় শহিদুল ইসলাম স্বাধীনকে।
অপর মামলাটি করা হয় পুলিশের পক্ষ থেকে। ওই মামলায় বাদী হয়েছেন শাল্লা থানার এসআই আব্দুল করিম।
সেখানকার জনপ্রতিনিধিরা বলেছেন, গ্রামের বাসিন্দাদের আতংক এখনও কাটেনি।
গ্রামটিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ এবং র্যাবের দু'টি অস্থায়ী ক্যাম্প বসানো হয়েছে গত বৃহস্পতিবার।