মোজতবা খামেনিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণা

ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভিতে মোজতবা খামেনির এই ছবি প্রচার করা হয়েছে

ছবির উৎস, IRINN

ছবির ক্যাপশান, ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভিতে মোজতবা খামেনির এই ছবি প্রচার করা হয়েছে
পড়ার সময়: ৪ মিনিট

ইরানের অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস মোজতবা খামেনিকেই দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বেছে নিয়েছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

১৯৬৯ সালের আটই সেপ্টেম্বর ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন মোজতবা।

তিনি খামেনির ছয় সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয়। তেহরানের ধর্মীয় আলাভি স্কুলে তিনি মাধ্যমিক শিক্ষা লাভ করেন।

ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ বছর বয়সে ইরান-ইরাক যুদ্ধ চলাকালে তিনি স্বল্প সময়ের জন্য বেশ কয়েকবার সেনাবাহিনীতে কাজ করেছিলেন।

এরপর ১৯৯৯ সালে তিনি ধর্মীয় পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পবিত্র শহর কোমে যান, যা শিয়া ধর্মতত্ত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়।

তবে, তিনি বেশিরভাগ সময়েই নিজেকে আড়ালে রেখে আসছিলেন।

তিনি কখনও কোনো সরকারি পদে ছিলেন না এবং জনসমক্ষে কোনো বক্তৃতা বা সাক্ষাৎকারও দেননি। তার খুব অল্প সংখ্যক ছবি ও ভিডিওই বাইরে এসেছে।

গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বাসভবন ও কার্যালয় কম্পাউন্ড ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ওই হামলাতেই আলী খামেনির মৃত্যু হয় বলে প্রথমে জানান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার কয়েক ঘণ্টা পর ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে আলী খামেনির মৃত্যুুর খবর নিশ্চিত করে ইরানের কর্তৃপক্ষ।

মোজতবা খামেনি বেশিরভাগ সময়েই নিজেকে আড়ালে রেখে আসছিলেন

ছবির উৎস, EPA

ছবির ক্যাপশান, মোজতবা খামেনি বেশিরভাগ সময়েই নিজেকে আড়ালে রেখে আসছিলেন

এদিকে, মোজতবা খামেনির নাম নতুন নেতা হিসেবে ঘোষণার পর ইসরায়েলে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে ইরান।

ওদিকে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের দূতাবাস কর্মীদের সৌদি আরব ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বাহরাইন ও কুয়েতে নতুন করে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

এছাড়া সোমবার কাতারের দোহায় বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। কাতার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে ভোরের দিকে তারা একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত কিছুদিন ধরেই বলে আসছেন যে, তিনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখতে চান।

দেশটিতে পুরনো নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত কেউ ক্ষমতায় এলে তা তিনি মেনে নিতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিলেও এটি তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে, সেই ব্যক্তি মোজতবা খামেনি হওয়া তার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

"খামেনির ছেলে আমার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়," এই সপ্তাহের শুরুতেই বলেছিলেন ট্রাম্প।

তিনি পরে এও বলেছেন যে, তার অনুমোদন ছাড়া যে-ই ক্ষমতায় আসুক না কেন সে "দীর্ঘদিন টিকতে পারবে না।"

ইসরায়েলও খামেনির দ্বিতীয় ছেলেকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিশ্চিত করার আগেই এক সতর্কবার্তা দিয়েছিল।

তাতে তারা বলেছে, প্রয়াত আয়াতুল্লাহর যে কোনো উত্তরসূরির বিরুদ্ধেই তারা 'অভিযান চালিয়ে যাবে'।

মোজতবা খামেনি

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ২০১৯ সালে তেহরানে এক অনুষ্ঠানে মোজতবা খামেনিকে দেখা যায়

কোন ভূমিকা তাকে সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্বে এনেছে

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনির নাম ঘোষনার পর দেশটির শাসকগোষ্ঠীর সমর্থকরা রাস্তায় নেমে এসে তা উল্লাস করেছেন।

ছাপ্পান্ন বছর বয়েসি মোজতবা খামেনি দীর্ঘদিন ধরে আড়ালে থেকে প্রভাব খাটানোর জন্য পরিচিত বলে অনেকে মনে করেন।

বার্তা সংস্থা এপির এক খবরে বলা হয়েছে, উইকিলিকস প্রকাশিত মার্কিন কূটনৈতিক তারবার্তায় তাকে 'আড়ালে থেকে কলকাঠি নাড়া' প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে, মোজতবা খামেনিকে ইরানের শাসক গােষ্ঠীর মধ্যে 'যোগ্য এবং দৃঢ়চেতা' ব্যক্তিত্ব হিসেবে দেখা হয়।

তার বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনগুলোতে হস্তক্ষেপ করা, বাসিজ মিলিশিয়াকে নির্দেশনা দেওয়া এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার অভিযোগ রয়েছে।

তবে, ইরানে তার প্রভাব নিয়ে নানা আলোচনা থাকা সত্ত্বেও, তিনি ইসলামী প্রজাতন্ত্রটির কোনো আনুষ্ঠানিক সরকারি পদে কখনো অধিষ্ঠিত হননি।

তার বাবা আলী খামেনি এবং তার পূর্বসূরি ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা রুহুল্লা খোমেনি উভয়েই ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবে উৎখাত হওয়া পাহলভি রাজতন্ত্রের বংশানুক্রমিক ক্ষমতা হস্তান্তরের সমালোচক ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্র ২০১৯ সালে মোজতবা খামেনির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

তখন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির নিযুক্ত বা তার পক্ষ থেকে কাজ করে বিবেচনা করে এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল।

আলি লারিজানি মন্তব্য

ইরানি সংবাদ সংস্থাগুলোর খবরে বলা হয়েছে, ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলি লারিজানি ট্রাম্পের বোমা মারার হুমকি সত্ত্বেও আলী খামেনির উত্তরসূরি নির্বাচিত করায় অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টসকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, "তেহরানের শত্রুরা ভেবেছিল যে আলী খামেনির মৃত্যুর পর দেশটি অচলাবস্থায় পড়বে।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস মোজতবা খামেনিকে উত্তরসূরি হিসেবে নির্বাচন করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে"।

ওদিকে, আইআরজিসি ঘনিষ্ঠ তাসনিম নিউজ এজেন্সি ও রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইরিব মোজতবা খামেনিকে স্বাগত জানিয়ে আইআরজিসির দেওয়া বিবৃতি প্রচার করেছে।

বিবৃতিতে মি. খামেনিকে 'একজন সর্বগুণসম্পন্ন ইসলামী আইনবিশারদ, একজন তরুণ চিন্তাবিদ এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়গুলোতে সবচেয়ে জ্ঞানী ব্যক্তি' হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প কয়েকদিন আগেই বলেছেন খামেনির ছেলে তার কাছে গ্রহনযোগ্য হবে না

ছবির উৎস, Reuters

ছবির ক্যাপশান, ডোনাল্ড ট্রাম্প কয়েকদিন আগেই বলেছেন, তার কাছে 'খামেনির ছেলে গ্রহনযোগ্য হবে না'

তেলের ব্যারেল ১০০ ডলারে পৌঁছেছে

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো উৎপাদন কমিয়ে দেওয়ায় রবিবার অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার (৭৫ পাউন্ড) ছাড়িয়ে গেছে।

এটি হয়েছে মূলত হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে। বিশ্বের তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পথগুলোর একটি, যা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধের কারণে বন্ধ অবস্থায় রয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড এর দাম ১৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৮.৬৮ ডলারে পৌঁছেছে। আর মার্কিন তেলের দাম ২০ শতাংশ বেড়ে ১০৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

এটি ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর তেলের দামের সবচেয়ে বড় উল্লম্ফন।

তখন অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের অনেক ওপরে উঠে গিয়েছিল।