পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া বাস থেকে ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার, অভিযান চলছে

ছবির উৎস, NASRIN AKHTAR
- Author, সজল দাস
- Role, বিবিসি নিউজ বাংলা
- পড়ার সময়: ৪ মিনিট
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে দুর্ঘটনা কবলিত বাসটি থেকে এখন পর্যন্ত ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
এই দুর্ঘটনায় এখনও একজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। দুর্ঘটনাস্থলে চারটি ইউনিট উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে বলেও জানানো হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ১৩ জন নারী, পাঁচজন শিশু এবং পাঁচজন পুরুষ।
ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় পর রাত সাড়ে বারোটার দিকে বাসটিকে পদ্মা নদী থেকে টেনে পানির উপরে আনে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা।
এদিকে, দুর্ঘটনা কবলিত বাস থেকে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় শণাক্ত করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসন।
২২ জনের মরদেহ নিহতদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান রাজবাড়ি জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার।
"একজনের মরদেহ এখনও হাসপাতালে রয়েছে। দিনাজপুর থেকে তার স্বজনেরা রওয়ানা দিয়েছেন, তারা এলেই মরদেহ বুঝিয়ে দেওয়া হবে," বিবিসি বাংলাকে বলেন তিনি।
এই দুর্ঘটনায় আর কেউ নিখোঁজ রয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মিজ আক্তার বলেন, "এখনও নিখোঁজ রয়েছেন এমন দাবি কারো স্বজন বা কেউ আমাদের কাছে করেননি। তবে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে।"
তিনি জানান, উদ্ধারকারী ডুবুরি দল ভোর পর্যন্ত অভিযান চালিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে আবারও উদ্ধার অভিযান শুরু করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এই ঘটনায় পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

ছবির উৎস, SCREEN GRAB
চলছে উদ্ধার অভিযান
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
বৃহস্পতিবার সকালেও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষ জানিয়েছে, চারটি ইউনিট এখনও দুর্ঘটনা কবলিত এলাকা ও এর আশপাশে তল্লাশি চালাচ্ছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার সকালেও দৌলতদিয়া ঘাটের দুর্ঘটনা কবলিত এলাকায় উৎসুক মানুষের ভীড় দেখা গেছে।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, রাতে বাসটি থেকে নারী ও শিশুসহ ২১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করেন সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী মিঠুন গোস্বামী বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, ভোরের দিকে কিছুক্ষণের জন্য অভিযান বন্ধ ছিল। এরপর আবারও অভিযান শুরু করে উদ্ধারকারীরা।
"মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার উদ্ধার অভিযান দেখতে সারা রাতই দৌলতদিয়া ঘাটে নিহতদের স্বজনদের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক উৎসুক জনতা ভীড় করেন, এখনও অনেক মানুষ এখানে রয়েছেন," জানান তিনি।
মি. গোস্বামী জানান, রাত দশটার পর থেকেই একে একে মরদেহ তুলে আনা হয়। বাসটি উদ্ধার করার পর ১৪টি মরদেহ সেখান থেকে বের করে আনেন উদ্ধারকারীরা।
রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাসটিকে নদীর ৬০ ফুট নিচে থেকে টেনে পানির ওপরে আনা সম্ভব হয় বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের ফরিদপুর স্টেশনের সহকারী পরিচালক মো. বেলাল উদ্দিন।
শুরুতে রাজবাড়ী ও গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন এবং আরিচা স্টেশনের ডুবুরি ইউনিট উদ্ধার কাজ শুরু করে। পরে ঢাকা ও ফরিদপুর থেকে আরো দুটি ডুবুরি ইউনিট যোগ দেয় বলেও জানান তিনি।

ছবির উৎস, MIR SAMSUZZAMAN SAURAV
কী ঘটেছিল?
বুধবার বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায় সোহার্দ্য পরিবহন নামে একটি যাত্রীবাহি বাস।
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিবহনের ঘাট তত্ত্বাবধায়ক মো. মনির হোসেন বিবিসি বাংলাকে জানান, ডুবে যাওয়া বাসটি নারী-শিশুসহ প্রায় ৫০ জন যাত্রী নিয়ে কুমারখালী থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলো।
দৌলতদিয়ার তিন নম্বর ঘাটে ফেরির জন্য অপেক্ষা করার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে বলেও জানান তিনি।
মি. হোসেন জানান, "সোয়া পাঁচটার দিকে 'হাসনা হেনা' নামের একটি ইউটিলিটি (ছোট) ফেরি এসে জোরে পন্টুনে আঘাত করে। এ সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।"
সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এই ঘটনার একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, পানিতে পড়ার পর মুহূর্তেই তলিয়ে যায় দুর্ঘটনা কবলিত বাসটি। এসময় বেশ কয়েকজনকে সাতরে নদীর পাড়ে আসার চেষ্টা করতেও দেখা যায়।
বুধবার সন্ধ্যায় ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ইন্সপেক্টর মো. আনোয়ারুল ইসলাম বিবিসি বাংলাকে জানান, ৫টা ২০ মিনিটে বাসটি ডুবে যাওয়ার খবর ফায়ার সার্ভিসের কাছে আসে। এর ছয় মিনিটের মাথায় গোয়ালন্দ থেকে একটি ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
এরপর আরিচা থেকেও একটি উদ্ধারকারী দল সেখানে যোগ দেয় বলে জানান তিনি।
রাজবাড়ি ও দৌলতদিয়ার পাশাপাশি ফরিদপুর ও ঢাকা থেকেও উদ্ধারকারী দল এই উদ্ধারকাজে যোগ দেন।
বুধবার রাত পৌনে ১০টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ডিউটি অফিসার রাকিবুল হাসান বিবিসি বাংলাকে বলেন, ফরিদপুর ও আরিচা থেকে ফায়ার সার্ভিসের দু'টো ডুবুরি ইউনিট উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে এবং ঢাকার সিদ্দিকবাজার থেকে আরও দু'টো ডুবুরি ইউনিট দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের দিকে যাচ্ছে।
দৌলতদিয়া ঘাটে কর্মরত একাধিক গণমাধ্যমকর্মী বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, উদ্ধার কাজ শুরুর প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর বাসটি প্রথম পানির ওপর দৃশ্যমান হয়। এরপর বাসটিকে টেনে উপরে নিয়ে আসে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা।
স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী মিঠুন গোস্বামী বিবিসি বাংলাকে বলেন, শুরুর দিকে বৃষ্টিসহ বিরূপ আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়েছিল।








