আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
বারাণসীতে গঙ্গায় ইফতার, মাংসের হাড় ফেলার অভিযোগে ১৪ জন গ্রেপ্তার
ভারতের উত্তর প্রদেশের বারাণসীতে নৌকায় করে ইফতারের সময় গঙ্গা নদীতে মাংস খাওয়া ও উচ্ছিষ্ট মাংসের হাড় জলে ফেলার অভিযোগে ১৪ জন মুসলিম যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সোমবার এই ঘটনা ঘটে।
বারাণসীর কোতয়ালি থানায় দায়ের করা একটি অভিযোগের ভিত্তিতেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ওই অভিযোগটি দায়ের করেছিলেন বারাণসীর ভারতীয় জনতা যুব মোর্চার নগর সভাপতি রজত জয়সওয়াল। এরপরই পুলিশ তদন্ত দল গঠন করে ব্যবস্থা নেয়।
তাদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা, ধর্মীয় স্থলের অবমাননা করা, উপদ্রব, নদী দূষণ, ক্ষতিকর দ্রব্য নদীতে ফেলার মতো অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ কী বলেছে?
বারাণসী পুলিশ কমিশনারেটের অ্যাসিস্টেন্ট পুলিশ কমিশনার (এসিপি) বিজয় প্রতাপ সিং সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "সোমবার অর্থাৎ ১৬ই মার্চ একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল যেখানে কয়েকজন ব্যক্তিকে মা গঙ্গার পবিত্র জলে নৌকায় সওয়ার হয়ে ইফতার পার্টি করতে দেখা গিয়েছে। ওই ভিডিওতে তাদের চিকেন বিরিয়ানি খেতে দেখা গিয়েছে।"
"এই বিষয়ে খবর পাওয়ার পর একটি অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তের জন্য একাধিক টিম গঠন করা হয়েছিল এবং এখন পর্যন্ত ১৪ জনকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি ব্যক্তিদের খোঁজ চালানো হচ্ছে।"
এই ঘটনায় যে মামলা করা হয়েছে, তাতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস), ২০২৩-এর আওতায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা, ধর্মীয় স্থলের অবমাননা করা, উপদ্রব, করা বিভাজন এবং সরকারি আদেশ অমান্য করার মতো অভিযোগ রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
একইসঙ্গে ১৯৭৪ সালের ওয়াটার (পলিউশন প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল) অ্যাক্ট বা জল (দূষণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ) আইনের ধারাও যোগ করা হয়েছে। জল দূষণ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও প্রশমনের উদ্দেশ্যে ওই আইনে বর্জ্য নিঃসরণ, শিল্প ও কৃষি বর্জ্য বা অন্যান্য দূষণ সৃষ্টিকারী কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি জেনেশুনে নদী, কূপ, খাল বা ভূমিতে বিষাক্ত, ক্ষতিকর বা দূষণকারী পদার্থ ফেলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
'ইফতার পার্টির নামে তারা গঙ্গায় আমিষ খেয়েছেন'
বারাণসীর ভারতীয় জনতা যুব মোর্চার (বিজেওয়াইএম) সভাপতি রজত জয়সওয়াল কোতওয়ালি থানায় এফআইআর দায়ের করার পরই পুলিশ পদক্ষেপ নেয়।
রজত জয়সওয়ালের অভিযোগ, "ইফতার পার্টির নামে কিছু মুসলিম যুবক বিন্দু মাধব ধরহারা মন্দিরের সামনে গঙ্গায় আমিষ খাবার খেয়েছেন।"
"বিন্দু মাধব ধরহারাকে আলমগীর মসজিদ বলা হলেও তার আসল নাম কিন্তু আলমগীর মসজিদ নয়। মুসলিম যুবকরা যেভাবে মাংস খেয়েছেন, তা সনাতন ধর্মের অনুগামীদের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। আমরা এর তীব্র বিরোধিতা করছি।"
এই ঘটনায় প্রশাসনকে পদক্ষেপের নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
মি. জয়সওয়ালের কথায়, "আমরা এই বিষয় নিয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছিলাম। তার উপর ভিত্তি করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রমাণ হিসাবে আমরা প্রশাসনের কাছে ওই ভিডিওটি জমা দিয়েছি। সেখানে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে যে তারা আমিষ খাবার খাচ্ছেন এবং তারা গঙ্গার জলে মাংসের হাড় ছুঁড়ে ফেলছেন।"
দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
End of বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর:
'মুসলিমদের শোষণের জন্যই এই মামলা'
এই ঘটনার বিষয়ে কথা বলতে বারাণসীর আঞ্জুমান ইন্তেজামিয়া মসজিদের যুগ্ম সম্পাদক এস এম ইয়াসিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তিনি এই নৌকায় ইফতারের বিষয়টিকে নিন্দা করেছেন একইসঙ্গে পাল্টা অভিযোগও তুলেছেন।
এস এম ইয়াসিন জানিয়েছেন কয়েকজন যুবক যে নৌকায় করে নদীতে ইফতার করছিলের সে বিষয়ে তিনি মঙ্গলবার জানতে পেরেছেন।
তার মতে, ইসলামে এর কোনো স্থান নেই। ইফতার একটি ধর্মীয় কাজ, এটি কোনোমতেই পিকনিক নয়। ইফতারের পরপরই মাগরিবের নামাজ পড়তে হয়।
পাশাপাশি পাল্টা অভিযোগও তুলেছেন তিনি। বারাণসীর আঞ্জুমান ইন্তেজামিয়া মসজিদ কমিটির যুগ্ম সম্পাদক বলেছেন, "এই বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে মুসলিমদের শোষণের জন্যই তাদের বিরুদ্ধে এই এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।"
(সুশান্ত মুখার্জীর অতিরিক্ত প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে)