শহীদ মিনারে শ্রদ্ধার পাশাপাশি দোয়া-মোনাজাত, প্রথমবারের মতো গেলেন জামায়াতের আমির

একুশের প্রথম প্রহরে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ছবির উৎস, PMO Bangladesh

ছবির ক্যাপশান, একুশের প্রথম প্রহরে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
পড়ার সময়: ৫ মিনিট

বাংলাদেশে একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান।

এবারই প্রথম জামায়াতের কোনো আমির কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে উপস্থিত হয়ে শ্রদ্ধা জানালেন। তিনি জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের সংসদ সদস্যদের নিয়ে এই শ্রদ্ধা জানান।

অন্যদিকে এবার প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধা জানানো শেষে সেখানে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নিয়েছেন। পরে দলীয় চেয়ারম্যান হিসেবে বিএনপি নেতাদের নিয়ে এবং এরপর তার স্ত্রী ও কন্যাকে নিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

ওদিকে সাধারণত একুশের প্রথম প্রহরে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য আগে এসে শহীদ মিনারে রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাতে দেখা যেত প্রধানমন্ত্রীকে। কিন্তু এবার রাষ্ট্রপতি পুষ্পস্তবক অর্পণ করে চলে যাওয়ার পর এসে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা জানানো শেষে সর্বস্তরের মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ শ্রদ্ধা জানানো শুরু করে।

তবে জাতীয় পার্টির একদল নেতাকর্মী ব্যানারসহ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য গেলেও তারা একটি রাজনৈতিক দলের একটি ইউনিটের নেতাকর্মীদের বাধার মুখে পড়েন।

প্রসঙ্গত, ১৯৫২ সালের এই দিনে বাংলাকে তৎকালীন পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলনরত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের ওপর পুলিশ গুলি চালালে আবুল বরকত, সালাম, রফিকউদ্দিন এবং জব্বারসহ আরো অনেকে নিহত হন।

দিনটি বাংলাদেশ ভাষা শহীদ দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছিল। পরে ১৯৯৯ সালে দিনটিকে জাতিসংঘ 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে ঘোষণা করলে বাংলাদেশের ভাষা শহীদ দিবস ভিন্ন মাত্রা পায়।

এ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এছাড়া দেশের সব জেলা ও উপজেলাতেই শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে মানুষ।

শহীদ মিনারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ছবির উৎস, PMO Bangladesh

ছবির ক্যাপশান, শহীদ মিনারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

সরকারি বার্তা সংস্থা বাসস জানিয়েছে, একুশের প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

রাষ্ট্রপতি ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।

এর আগে রাত বারটা বাজার কয়েক মিনিট আগেই রাষ্ট্রপতি শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে পৌঁছানোর পর তাকে স্বাগত জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান।

রাষ্ট্রপতি চলে যাবার পর রাত ১২টা ৮ মিনিটে শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর তিনি ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।

প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ভাষা শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

বাসসের খবরে বলা হয়েছে, "এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ উপস্থিত সবাই দু'হাত তুলে ৯০ ও ২৪ এর আন্দোলনের শহীদসহ ভাষা শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করেন"।

একইসঙ্গে সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্যও দোয়া করা হয় এবং দেশ ও জনগণের কল্যাণ ও শান্তি কামনা করা হয় বলেও ওই খবরে উল্লেখ করা হয়।

পরে মন্ত্রীপরিষদের সদস্যদের নিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এরপর বিএনপির সিনিয়র নেতাদের নিয়ে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তারেক রহমান। পাশাপাশি পরিবারের পক্ষ থেকে ভাষা শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান।

এরপর প্রধানমন্ত্রী শহীদ মিনার এলাকা ছেড়ে যাবার পর তিন বাহিনী প্রধান কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানান।

শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জেটের নেতারা

ছবির উৎস, PID

ছবির ক্যাপশান, শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জেটের নেতারা

শহীদ মিনারে কেন- প্রশ্নের জবাবে যা বললেন জামায়াতে আমির

তিন বাহিনী প্রধান শ্রদ্ধা জানানোর পর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানান জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোটের নেতারা। এরপর তারা শহীদ মিনারের বেদীতে দাঁড়িয়ে মোনাজাতও করেন।

জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ও পরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মুক্তি পাওয়া জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলামও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বেরিয়ে যাওয়ার পর একজন সাংবাদিক মি. রহমানকে প্রশ্ন করেন যে, জামায়াত সাধারণত ফুল দিতে আসে না শহীদ মিনারে, এবার কী মনে করে এলেন?

জবাবে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, "এবার রাষ্ট্রীয় আচার হিসেবে এটা আমার দায়িত্ব। বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে এখানে আসতে হবে আমার সঙ্গীদের নিয়ে। তাই আমি এসেছি। জাতির অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করে জীবন দিয়েছেন তাদের সবাইকে আমরা স্মরণ করি। শেষ পর্যন্ত আমাদের ওসমান হাদিকেও আমরা স্মরণ করি"।

তিনি বলেন, "আমরা আসলে ভাষা শহীদদের আগে ও ৪৭ এও যারা শহীদ হয়েছে তাদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি। বায়ান্নর শহীদদের স্মরণ করি, একাত্তরের শহীদদের স্মরণ করি, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের স্মরণ করি। এরপরেও যারা ফ্যাসিবাদের হাতে শহীদ হয়েছেন তাদের স্মরণ করি। বিশেষ করে সাড়ে ১৫ বছর ফ্যাসিস্ট আমলে যারা শহীদ হয়েছে তাদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি। শেষ পর্যন্ত স্মরণ করি জুলাই যোদ্ধা হিসেবে জাতির অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন দিয়েছে তাদের সবাইকে স্মরণ করি"।

এরপর তারা আজিমপুর কবরস্থানে গিয়ে ভাষা শহীদদের কবর জিয়ারত করেন।

রুমিন ফারহানা

ছবির উৎস, screengrab

ছবির ক্যাপশান, রুমিন ফারহানা

শ্রদ্ধা জানাতে বাধার অভিযোগ

এদিকে, বিএনপি নেতাকর্মীদের বাধায় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে পারেননি বলে অভিযোগ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, শ্রদ্ধা জানাতে রাত ১২টা এক মিনিটে সরাইল উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে গেলে বিএনপির কিছু লোক তার নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায় এবং তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করে। তবে উপজেলা বিএনপির সভাপতি বা সম্পাদক সেখানে ছিলেন না বলেও তিনি জানান।

বিএনপি তার স্থানীয় নেতাকর্মীরে এখনই নিয়ন্ত্রণ না করলে এর পরিণতি 'ভয়াবহ' হবে এবং 'সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন' হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

স্থানীয় একজন সংবাদিক জানান, পুলিশি হস্তক্ষেপে শহীদ মিনার এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে এ ঘটনার পর ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শাহবাজপুর প্রথম গেট এলাকা প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধ করে বিক্ষোভ করে রুমিন ফারহানার কর্মী-সমর্থকরা। এ সময় তারা সড়কের উপর আগুন জ্বালিয়ে এ ঘটনার বিচার দাবি করেন।

এই ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেবেন বলেও সাংবাদিকদের জানান রুমিন ফারহানা।