করোনাভাইরাস: বাংলাদেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৫টি জেলাতেই ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস

ঢাকার একটি হাসপাতালের চিত্র

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ঢাকার একটি হাসপাতালের চিত্র (ফাইল ফটো)

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার দেড় মাসের মাথায় প্রায় পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এই ভাইরাস।

সরকারের পক্ষ থেকে আজ জানানো হয়েছে যে দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৫৫টি জেলাতেই কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক নাসিমা সুলতানা এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, আক্রান্তদের মধ্যে বেশিরভাগই, অর্থাৎ মোট আক্রান্তের ৭৩ শতাংশ, ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা।

ঢাকা শহরের পরেই বেশি রোগী রয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলায়। এই জেলায় মোট আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা ৪৯২ জন। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় আছেন ৩৬৪ জন। এখানে মারা গেছেন ৩৫ জন আর সুস্থ হয়েছেন ১৬ জন।

এরপরে সংখ্যার দিক থেকে রয়েছে গাজীপুর, কিশোরগঞ্জ এবং নরসিংদীর অবস্থান। ঢাকা বিভাগের ১৩টি জেলায় এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে।

বাংলাদেশে সুস্থতার হার

বাংলাদেশে সুস্থ হওয়ার হার এতো কম কেন?

বাংলাদেশে যে হারে করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হচ্ছেন, সেই তুলনায় সুস্থ হওয়ার হার অনেক কম বলে সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সুস্থ রোগীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে শুরু করলেও বাংলাদেশে আক্রান্ত ও মৃত্যুর তুলনায় এখনো তা অনেক কম বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

বুধবার পর্যন্ত বাংলাদেশে কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ৩,৭৭২ জন। তাদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১২০ জনের, আর সুস্থ হয়েছেন ৯২ জন।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানাচ্ছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৩,০৯৬টি নমুনা পরীক্ষা করে ৩৯০ জন আক্রান্তকে শনাক্ত করা হয়েছে, যা পরীক্ষা করা নমুনার প্রায় ১০ শতাংশ।

বিষয়টি ব্যাখ্যা করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক নাসিমা সুলতানা প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, আসলে যারা কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন, তাদের সুস্থ হতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়।

Sorry, your browser cannot display this map

''অনেক সময় উপসর্গ ও লক্ষণ নিয়েই তারা ১৪/১৫ দিন পর্যন্ত থাকেন। তারপরে তাদের এই লক্ষণ বা উপসর্গ কমতে শুরু করে এবং প্রায় মাসখানেক সময় লেগে যায় সম্পূর্ণ সুস্থ হতে।''

''একজন ব্যক্তিকে আমরা তখনই সম্পূর্ণ সুস্থ বলবো, যখন পরপর দুইটি পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ আসবে।''

জেলা ভিত্তিক সংক্রমণের চিত্র

বেশিরভাগ মৃত্যু ঢাকায়

স্বাস্থ্য বিভাগের এই উর্ধতন কর্মকর্তা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় যে ১০ জন মারা গেছেন, তাদের মধ্যে সাত জন পুরুষ, আর তিন জন নারী।

এদের মধ্যে সাতজন ঢাকার বাসিন্দা। আর বাকি তিনজন ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ এবং টাঙ্গাইলের বাসিন্দা।

বয়সের বিচারে ষাটোর্ধ তিনজন, ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সের মধ্যে দুইজন, ৪১ থেকে ৫০ তিনজন এবং ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে দুইজন মৃত্যুবরণ করেছেন।

আইসোলেশনে আছেন ৯০০ ব্যক্তি

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেয়া হয়েছে ১৫০ জনকে। তাদেরকে নিয়ে বর্তমানে আইসোলেশনে রয়েছেন ৯০০ ব্যক্তি।

এ পর্যন্ত আইসোলেশন থেকে ছাড়া পেয়েছে ৫৯৪ জন।