করোনাভাইরাস: মহামারি জর্জরিত পাকিস্তান ক্রিকেট দল, কী হবে ইংল্যান্ড যাত্রার?

পড়ার সময়: ২ মিনিট

আরো সাতজন ক্রিকেটারের দেহে করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে পাকিস্তানের। আগে থেকেই ছিল তিনজনের। এনিয়ে মোট ১০জন ক্রিকেটার কোভিড-১৯ পজিটিভ হয়েছেন।

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাহী ওয়াসিম খান একটি ভিডিও বার্তায় সাত জন খেলোয়াড়ের শরীরে নতুন করে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়বার খবর দেন।

এরা হলেন, ফখর জামান, ইমরান খান, কাশিফ ভাট্টি, মোহাম্মদ হাফিজ, মোহাম্মদ হাসনাইন, মোহাম্মদ রিজওয়ান এবং ওয়াহাব রিয়াজ।

এর আগে হায়দার আলি, হারিস রউফ ও শাবাদ খান আক্রান্ত হন কোভিড-১৯ এ।

এছাড়া দলের সাহায্যকারী একজন কর্মী মালাঙ আলীও পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন।

সোমবার শাদাব খান, হারিস রউফ ও হায়দার আলীর ফল পজিটিভ আসে।

ইংল্যান্ড সফরের জন্য ২৯জন ক্রিকেটারকে ডাকে পাকিস্তান তার মধ্যে ১০ জনই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বলে জানা গেল।

তবে পিসিবি কর্মকর্তা ওয়াসিম খান বলছেন, দল সঠিক সময়েই ইংল্যান্ড যাবে।

দলটির ২৮শে জুন ইংল্যান্ড যাওয়ার কথা রয়েছে।

যারা পজিটিভ এসেছেন তারা আইসোলেশনে আছেন। এরপর আবার টেস্ট করার পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে ইংল্যান্ডে তারা যাবেন কি যাবেন না।

ওয়াসিম খান বলছেন, কোনো প্রশ্নের উত্তরই নিশ্চিত না এখন। তবে ক্রিকেট মাঠে ফেরানো গুরুত্বপূর্ণ। আরো দেড় বছর ক্রিকেট আর কোভিড-১৯ এভাবেই চলবে।

ক্রিকেটারদের মধ্যে কোনো রকম উপসর্গ দেখা গেলে সাথে সাথে জানাতে বলা হয়েছে।

সোমবার কোচিং স্টাফ ও ক্রিকেটারদের মধ্যে ২৮ জনের একটি দলের টেস্ট হয়েছে।

যারা টেস্টে নেগেটিভ এসেছে তারা আবারো ২৫শে জুন কোভিড-১৯ টেস্ট দেবেন।

২৮শে জুন ম্যানচেস্টারের উদ্দেশে রওনা দেয়ার কথা রয়েছে।

শোয়েব মালিকের এখনো পরীক্ষা করা হয়নি। তিনি ২৪শে জুলাই ইংল্যান্ডে যাবেন পরিবারের সাথে দেখা হওয়ার পর।

এছাড়া বোলিং কোচ ওয়াকার ইউনুসেরও টেস্ট হয়নি।

পাকিস্তান ও ইংল্যান্ডের ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে যে আলোচনা হয়েছে তার ভিত্তিতে বাকি ক্রিকেটারদের ইংল্যান্ডে প্রবেশের বিশেষ সুবিধা দেয়া হবে।

ইংল্যান্ডে কী ধরণের প্রটোকল থাকবে

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের স্পোর্টস সায়েন্স ও মেডিসিন বিভাগের প্রধান সোহেল সালিম জানিয়েছেন, ইংল্যান্ডে যাওয়ার পর আবারো টেস্ট করা হবে পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের। এরপর শুরু হবে অনুশীলন। ইংল্যান্ডে প্রতি সাতদিনে একবার টেস্ট করা হবে।

টেস্ট সিরিজ শুরুর তিনদিন আগে আবারো পরীক্ষা করা হবে।

মি. সোহেল সালিম জানিয়েছেন যদি কোনোভাবে কোনো ক্রিকেটারের পজিটিভ আসে তাহলে তাকে সাতদিনের জন্য আলাদা করে ফেলা হবে।

দুইবার পরীক্ষা করা হবে। এবং এরপর আবারো পজিটিভ আসলে তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।

যদি সেটা সম্ভব না হয় হাসপাতালে ভর্তি করা হবে।

যদি কোনো একজন ক্রিকেটারের দেহে ভাইরাস পাওয়া যায় তাহলে সব ক্রিকেটারের সাথে সাথেই টেস্ট করা হবে।

সেখানে র‍্যাপিড টেস্ট আছে, তাই এই সুবিধাই নেবে পাকিস্তান।

ইংল্যান্ডের ক্রিকেট বোর্ড যদি অনুমতি না দেয় পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা তাদের প্রবাসী আত্মীয় বা স্বজনদের সাথে দেখা করতে পারবেন না।

চৌঠা জুলাই পর্যন্ত ব্রিটেনে কড়াকড়ি থাকবে, তার আগে এমনিও ক্রিকেটাররা কোথাও ঘুরে বেড়াতে পারবেন না।

সোহেল সালিম বলেছেন, ক্রিকেটারদের বলা হয়েছে তারা কীভাবে ট্যুরে থেকে একে অপরের থেকে দূরে থাকবেন।