সিরাজগঞ্জে কীটনাশক দিয়ে পাখি হত্যার ঘটনায় থানায় অভিযোগ

বাংলাদেশের সিরাজগঞ্জের শাহাজাদপুরে কীটনাশক প্রয়োগ করে পাখি হত্যা করায় এক কৃষকের বিরুদ্ধে স্থানীয় থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয় শাহাজাদপুরের নরিনা ইউনিয়নের একটি গ্রামের এক কৃষক পাখির আক্রমণ থেকে ক্ষেতের ফসল রক্ষা করতে পাখি মারার জন্য ক্ষেতে মাষকলাই ডালের সাথে কীটনাশক মিশিয়ে ছিটিয়ে দেন।

এরপর ঐ কীটনাশক মিশানো শস্য খেয়ে সোমবার ৬০ থেকে ৭০টি পাখি মারা যায় বলে জানান বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা 'দ্য বার্ড সেফটি হাউজ'এর প্রধান মামুন বিশ্বাস।

মামুন বিশ্বাস জানান, "কীটনাশক প্রয়োগ করে পাখি মারা হয়েছে, এই খবর পেয়ে গতকাল (মঙ্গলবার) সকালে আমি ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে তখনো আমি ২৭টি ঘুঘু এবং ৩টি মৃত কবুতর দেখতে পাই।"

যতগুলো পাখির মরদেহ ছিল, তার চেয়ে বেশি সংখ্যক পাখি কীটনাশক মিশ্রিত শস্য খেয়ে মারা গেছে বলে জানান মি. বিশ্বাস।

"আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে খবর পাই যে এরই মধ্যে অন্তত ২০টি পাখির মৃতদেহ নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছে। এছাড়া যেসব পাখি কিছুটা অসুস্থ হয়ে গিয়েছিল, সেগুলো আশেপাশের মানুষ খাবার জন্য নিয়ে গিয়েছিল।"

বাকি পাখির মরদেহগুলো স্থানীয় বন বিভাগের প্রতিনিধির কাছে হস্তান্তর করেন।

আরো পড়তে পারেন:

পরে বন বিভাগের পক্ষ থেকে শাহাজাদপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয় বলে নিশ্চিত করেন শাহাজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহিদ মাহমুদ খান।

"ঘটনাটি নিয়ে বন বিভাগের একজন কর্মকর্তা লিখিত অভিযোগ করেছেন। আমরা ঘটনাটির প্রাথমিক তদন্ত পরিচালনা করছি," বলেন শাহিদ মাহমুদ খান।

বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় ক্ষেতের ফসল রক্ষা করার জন্য কীটনাশক বা বিষ দিয়ে পাখি মারার ঘটনা শোনা যায়। সম্প্রতি এরকম কিছু ঘটনার অভিযোগ ওঠার পর অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার ঘটনাও ঘটেছে।