আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
সীতাকুণ্ড অগ্নিকাণ্ড: কন্টেইনার ডিপোতে বিস্ফোরণে দমকল কর্মীসহ অন্তত ৪৬ জন নিহত
বাংলাদেশে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি কন্টেইনার ডিপোতে অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনায় এখনো পর্যন্ত ৪৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর আগে চট্টগ্রামের স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই সংখ্যা ৪৯ বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।
চট্টগ্রামের জেলা সিভিল সার্জন মোঃ ইলিয়াস চৌধুরী বিবিসি বাংলাকে বলছেন, 'আগুনের ঘটনায় আহত হয়েছেন ২০০ জনের বেশি। তাদের মধ্যে ১২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।''
দমকল বিভাগ জানিয়েছে, আগুন নেভাতে গিয়ে তাদের নয়জন সদস্য নিহত হয়েছে। আরও তিনজন এখনো নিখোঁজ রয়েছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে জানানো হয়েছে সেখানে বার্ন ইউনিটে গুরুতর অবস্থায় পাঁচ জনকে নিয়ে আসা হয়েছে।
ঘটনাস্থল থেকে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ মাইন উদ্দিন পাঁচ জন দমকল কর্মীর মৃত্যুর খবর জানিয়েছিলেন।
মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। সবমিলিয়ে আহতের সংখ্যা ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও পুলিশসহ দুইশ জনের মতো মানুষ।
যাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও শহরের বেশ কটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে মোঃ মাইন উদ্দিন জানিয়েছেন।
সেখানে একটু পরপর বিস্ফারণের হচ্ছে বলে আগুন নেভাতে সমস্যা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক।
এখন আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও পুরোপুরি নেভানো সম্ভব হয়নি।
আগুন নেভাতে আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে দমকল কর্মীরা যোগ দিয়েছেন। সহায়তা করছে সেনাবাহিনী সদস্যরা।
শনিবার রাত নটার দিকে চট্টগ্রাম শহর থেকে ৩০ কিলোমিটারের মতো দূরে সীতাকুণ্ডের কদমরসুল এলাকায় বিএম ডিপো নামের একটি কন্টেইনার টার্মিনালে শুরুতে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়।
এর চল্লিশের মিনিটের মাথায় ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ ঘটে। মালবাহী কন্টেইনারগুলো দুমড়ে মুচড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে। পরপর বেশ কটি বিস্ফোরণ হয়।
বিস্ফোরণের সময় দমকল বাহিনীর কর্মীরা আগুন নেভানোর কাজ করছিল।
ডিপোতে আমদানি হয়ে আসা এবং রপ্তানিমুখি প্রচুর মালবাহী কন্টেইনার ছিল। যার মধ্যে রাসায়নিক পদার্থও ছিল।
চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর আগে রপ্তানি পণ্য এবং আমদানি হয়ে আসা মাল খালাস হওয়ার পর 'ট্রানজিট পয়েন্ট' হিসাবে কন্টেইনার রাখার জন্য ডিপোটি ব্যবহৃত হয়।
বিস্ফোরণের সময় পাঁচ কিলোমিটারের মতো দূরত্বে কাঁপুনি অনুভূত হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছে। আশপাশে ঘরবাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বাতাসে ঝাঁঝালো গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে বলে স্থানীয় এক সাংবাদিক বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন। স্থানীয় মানুষজনকে সাবধানে থাকার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সেখানে আগুন নেভাতে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি ইউনিট।
ওদিকে ডিপোটিতে 'হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড' নামের একটি রাসায়নিকে আগুন লেগেছে বলে নিশ্চিত হয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
যে রাসায়নিক এখন আশপাশের ড্রেনে ছড়িয়ে পড়েছে। রাসায়নিক যেন আশপাশে জলাধার ও সমুদ্রে আরো ছড়িয়ে না পড়ে সে ব্যাপারে কাজ চলছে। বালুর বস্তা দিয়ে ড্রেন আটকে দেয়া হয়েছে।